নতুন স্মার্টফোন কেনার আগে ৫টি জরুরি বিষয় যা আপনার জানা উচিত
বর্তমান সময়ে
স্মার্টফোন আমাদের
জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য
অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাজারে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন
ব্র্যান্ডের নতুন
নতুন মডেলের ফোন
আসছে। আকর্ষক ডিজাইন
আর বিজ্ঞাপনের ভিড়ে
অনেক সময় আমরা
বুঝতে পারি না
কোন ফোনটি আমাদের
জন্য সেরা হবে।
ভুল সিদ্ধান্তের কারণে
অনেক সময় টাকা
খরচ করেও মনের
মতো ফোন পাওয়া
যায় না।
আপনি যদি
এই মুহূর্তে বা
ভবিষ্যতে একটি
নতুন স্মার্টফোন কেনার
কথা ভেবে থাকেন,
তবে দোকানে যাওয়ার
আগে বা অনলাইনে
অর্ডার করার আগে
৫টি অত্যন্ত জরুরি
বিষয় অবশ্যই যাচাই
করে নেওয়া উচিত।
চলুন জেনে নেওয়া
যাক বিষয়গুলো কী
কী:
১.
পারফরম্যান্স ও প্রসেসর (Processor & RAM)
একটি ফোনের
প্রাণ হলো তার
প্রসেসর বা
চিপসেট। ফোনটি
কতটা দ্রুত কাজ
করবে, হ্যাং করবে
কি না বা
গেম খেলার সময়
কেমন পারফর্ম করবে—তা সম্পূর্ণ নির্ভর
করে প্রসেসরের ওপর।
- কী খেয়াল রাখবেন: বর্তমান
বাজারে স্ন্যাপড্রাগন (Snapdragon) এবং
মিডিয়াটেক (MediaTek)—এই দুটি
প্রসেসর সবচেয়ে
জনপ্রিয়। সাধারণ
ব্যবহারের জন্য
মিডিয়াটেক হেলিও
বা স্ন্যাপড্রাগন ৪/৬
সিরিজের প্রসেসর
ভালো। তবে
হেভি গেমিং
বা মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য স্ন্যাপড্রাগন ৭/৮
সিরিজ অথবা
মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি (Dimensity) প্রসেসরযুক্ত ফোন বেছে
নেওয়া উচিত।
এর পাশাপাশি ফোনে অন্তত
৪ জিবি বা
৬ জিবি র্যাম
(RAM) থাকা আবশ্যক।
২.
ডিসপ্লে কোয়ালিটি (Display Quality & Refresh
Rate)
ফোনের স্ক্রিনের
দিকে আমাদের সবচেয়ে
বেশি তাকিয়ে থাকতে
হয়। তাই ডিসপ্লের
মান ভালো না
হলে ফোন ব্যবহার
করে আনন্দ পাওয়া
যায় না, এমনকি
চোখেরও ক্ষতি হতে
পারে।
- কী খেয়াল রাখবেন: বাজেট
একটু ভালো
হলে অবশ্যই
AMOLED বা Super AMOLED ডিসপ্লেযুক্ত ফোন
কেনার চেষ্টা
করুন। এর
কালার এবং
ব্রাইটনেস খুব
চমৎকার হয়।
বাজেট কম
হলে ভালো
মানের IPS LCD ডিসপ্লে দেখতে
পারেন। এর
সাথে ডিসপ্লের রিফ্রেশ রেট
(Refresh Rate) ৯০ হার্জ
(90Hz) বা ১২০
হার্জ (120Hz) আছে কি
না দেখে
নিন। রিফ্রেশ
রেট যত
বেশি হবে,
ফোন স্ক্রল
করা তত
স্মুথ বা
মসৃণ মনে
হবে।
৩.
ক্যামেরা সেটআপ (Camera Quality)
অনেকের কাছেই
স্মার্টফোন কেনার
মূল উদ্দেশ্য থাকে
চমৎকার ছবি ও
ভিডিও ক্লিপ তৈরি
করা। তবে মনে
রাখবেন, শুধু মেগাপিক্সেল
বেশি হলেই কিন্তু
ক্যামেরা ভালো
হয় না।
- কী খেয়াল রাখবেন: ৪৮
বা ৬৪
মেগাপিক্সেল শুনলেই
চোখ বন্ধ
করে ফোন
কেনা ঠিক
হবে না।
ক্যামেরার অ্যাপারচার (Aperture—যেমন
f/1.8 বা f/1.7) কত তা
দেখুন। অ্যাপারচারের সংখ্যা যত
কম হবে,
রাতে বা
কম আলোতে
তত সুন্দর
ছবি উঠবে।
এছাড়া ক্যামেরায় আল্ট্রা-ওয়াইড
লেন্স এবং
ভিডিওর জন্য
ওআইএস (OIS - Optical Image
Stabilization) সুবিধা আছে
কি না
তা যাচাই
করে নিন।
৪.
ব্যাটারি লাইফ ও চার্জিং স্পিড (Battery & Charging)
সারাদিন ফোন
ব্যবহার করার
পর যদি বারবার
চার্জ শেষ হয়ে
যায়, তবে তা
অত্যন্ত বিরক্তিকর।
তাই শক্তিশালী ব্যাটারির
কোনো বিকল্প নেই।
- কী খেয়াল রাখবেন: বর্তমান
সময়ে অন্তত
৫০০০ এমএএইচ (5000 mAh) ব্যাটারির ফোন কেনা
উচিত। এটি
আপনাকে অনায়াসে সারাদিন ব্যাকআপ
দেবে। ব্যাটারির পাশাপাশি ফোনটি
কত দ্রুত
চার্জ হয়
বা কত
ওয়াটের (W) ফাস্ট চার্জিং
সাপোর্ট করে
তাও দেখা
জরুরি। অন্তত
১৮ ওয়াট
(18W) বা ৩৩
ওয়াটের (33W) ফাস্ট চার্জার
থাকলে অল্প
সময়েই ফোন
ফুল চার্জ
করে নেওয়া
সম্ভব।
৫.
বাজেট ও সঠিক ব্র্যান্ড নির্বাচন (Budget & Brand)
স্মার্টফোন কেনার
সবচেয়ে প্রথম
এবং প্রধান ধাপ
হলো বাজেট নির্ধারণ
করা। আপনার বাজেটের
মধ্যে কোন ব্র্যান্ডটি
সবচেয়ে সেরা
ভ্যালু ফর মানি
(Value for money) দিচ্ছে তা
খুঁজে বের করতে
হবে।
- কী খেয়াল রাখবেন: ব্র্যান্ডের নাম দেখে
অন্ধের মতো
টাকা খরচ
না করে,
আপনার বাজেটে
কোন ফোনটি
সবচেয়ে বেশি
ফিচার দিচ্ছে
তা তুলনা
করুন। এছাড়া
যে ব্র্যান্ডের ফোন কিনছেন,
আপনার এলাকায়
তাদের অফিসিয়াল সার্ভিস সেন্টার
আছে কি
না তা
জেনে নেওয়া
জরুরি। এতে
ভবিষ্যতে ফোনে
কোনো সমস্যা
হলে দ্রুত
সমাধান পাওয়া
যায়।
উপসংহার: স্মার্টফোন কেনার
সময় অন্যের কথায়
প্রলোভিত না
হয়ে নিজের প্রয়োজনের
দিকে নজর দিন।
আপনি যদি প্রচুর
গেম খেলেন তবে
প্রসেসরের দিকে
বেশি জোর দিন,
আর যদি কনটেন্ট
দেখতে ভালোবাসেন তবে
ভালো ডিসপ্লের ফোন
নিন। ওপরের ৫টি
বিষয় মাথায় রেখে
ফোন কিনলে আপনার
কষ্টের টাকার সঠিক
মূল্যায়ন হবে।
