শিশুর হাতে মোবাইল বা ট্যাব এখন খুব সাধারণ বিষয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা শিশুদের চোখে বাড়িয়ে দিচ্ছে মায়োপিয়া বা নিকটদৃষ্টির সমস্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট বয়সে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম, কম আউটডোর অ্যাক্টিভিটি এবং চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ ভবিষ্যতে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।
মায়োপিয়া কী?
মায়োপিয়া হলে দূরের জিনিস ঝাপসা দেখা যায়। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে শিশুদের মধ্যে এই সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে অনলাইন ক্লাস, মোবাইল গেম এবং ভিডিও দেখার অভ্যাস এর অন্যতম কারণ।
শিশুদের চোখ সুরক্ষিত রাখার ৫ উপায়
১. স্ক্রিন টাইম সীমিত করুন
বিশেষজ্ঞরা বলেন—
- ২ বছরের কম শিশুদের স্ক্রিন এড়ানো উচিত
- ২–৫ বছর: দিনে সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা
- বড় শিশুদের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া জরুরি
প্রতি ২০ মিনিট পর স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে ২০ সেকেন্ড দূরে তাকানোর অভ্যাস করান। এটিকে “20-20-20 Rule” বলা হয়।
২. বাইরে খেলাধুলা বাড়ান
প্রতিদিন অন্তত ১.৫–২ ঘণ্টা বাইরে খেলাধুলা করলে মায়োপিয়ার ঝুঁকি কমতে পারে। সূর্যের প্রাকৃতিক আলো চোখের স্বাভাবিক বিকাশে সাহায্য করে।
৩. মোবাইল খুব কাছে থেকে ব্যবহার করতে দেবেন না
শিশুর চোখ ও স্ক্রিনের দূরত্ব অন্তত ৩০–৪০ সেন্টিমিটার রাখুন। অন্ধকার ঘরে মোবাইল ব্যবহার করাও ক্ষতিকর।
৪. পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
কম ঘুম চোখের ক্লান্তি বাড়ায়। বয়স অনুযায়ী শিশুদের পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন:
- ছোট শিশু: ১০–১৩ ঘণ্টা
- স্কুলপড়ুয়া: ৯–১১ ঘণ্টা
৫. নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করান
শিশু বারবার চোখ কচলানো, টিভির কাছে গিয়ে বসা বা মাথাব্যথার অভিযোগ করলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞ দেখান। সময়মতো পরীক্ষা করলে সমস্যা দ্রুত ধরা পড়ে।
কোন লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হবেন?
- দূরের লেখা পড়তে সমস্যা
- চোখ ছোট করে তাকানো
- মাথাব্যথা
- পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাওয়া
- অতিরিক্ত চোখ কচলানো
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়, তবে সঠিক অভ্যাস গড়ে তুললে শিশুদের চোখ অনেকটাই সুরক্ষিত রাখা যায়।









